মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

উদ্যোক্তা জীবনে ঘটা একটি সংক্ষিপ্ত গল্প-২

 

 

 

 

উদ্যোক্তা জীবনে ঘটে যাওয়া আমার একটি সংক্ষিপ্ত গল্প (পর্ব-২)

“আলাউদ্দিন নগর ট্রাজেডি” আলাউদ্দিন নগর ঐতিহ্যবাহী

পশুহাটটি আজও কেন পারমিশন হয়নি?

=============================================================================================================

উদ্যোক্তা জীবনে ঘটে যাওয়া আমার একটি সংক্ষিপ্ত গল্প “আলাউদ্দিন নগর ট্রাজেডি”। আলাউদ্দিন নগর ঐতিহ্যবাহী পশুহাট বন্ধের একটি সংক্ষিপ্ত গল্প। আজ দ্বিতীয় পর্বের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো একটি সহজ বাক্য “১লা বৈশাখ থেকে আমি পারমিশন দিয়ে দিব”। এই সহজ বাক্যটির কারণেই একটি সহজ সরল প্রশ্ন আলাউদ্দিন নগর পশুহাটটি আজও কেন পারমিশন হয়নি ?  আলাউদ্দিন নগর ট্রাজেডি কয়টি পর্ব হবে আমি নিজেও জানিনা। তবে হঠাৎ করেই প্রশ্নটি মনে উদয় হওয়ায় পর্ব-২ সৃষ্টি হলো। ঐ সহজ বাক্যটির কারণে সহজ প্রশ্নটি হওয়ায় স্বাভাবিক। কারণ যে বাক্যটিকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউপির অধিকাংশ গ্রামবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হলো ব্যাপক ব্যবধান। যে ব্যবধানে গ্রামবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হলো দুটি পাট। যে ব্যবধানে গ্রামবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হামলা মামলা। যে ব্যবধানে বন্ধ হলো আলাউদ্দিন নগর ঐতিহ্যবাহী (চড়াইকোল) পশুহাট আর ২০১৩ সালে ১লা মে দিবসে সৃষ্টি হলো “আলাউদ্দিন নগর ট্রাজেডি”। "ভিডিও ক্লিপটি দেখুন"

­­­­­

আলাউদ্দিন নগর ট্রাজেডি প্রথম পর্বটি যাঁরা পড়েছেন তাঁরা খুব সহজেই বুঝতে পেরে,আমার কথাগুলোর সাথে একমত পোষণ করবেন। তাঁরা জানেন তিনি কে এবং কখন কোথায় কি ভাবে কথাটি বলেছিলেন। যিনি কথাটি বলেছেন, তিনি আমার জেলায় ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের কর্ণধার। তাঁর আদেশ, উপদেশ, নির্দেশ আমরা উদ্যোক্তারা এবং সচিবরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করি। তিনি মহৎ এবং মহান একজন ডিজিটাল প্রশাসক। আমি বিশ্বাস করি তিনি আমার রচয়িত আলাউদ্দিন নগর ট্রাজেডি গল্পটি পড়েন। আমি বিশ্বাস করি তিনি গল্পটি পড়ে আমার প্রতি কখনই এক্সসাইটেট হবেন না।

আর যদি তিনি বিষয়টি নেগেটিভ সেন্স-এ নেন তাহলে আমার ১২টা বাজবে। তিনি মনে করলে আমারমত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে মুহুর্তের মধ্যে সাইজ করে দিতে পারেন। আমার বিশ্বাস তিনি নিজেও তা করবেন না বা কাউকে করতেও দিবেন না কারণ সম্প্রতি একটি মিটিংয়ে তিনি বলেছেন, আমি সহসী লোকদের পছন্দ করি। যা হোক মূল কথায় আছি, যে পশুহাটটি কে কেন্দ্র করে এত কিছুর জন্ম সেই হাট পুনরায় স্থাপনের জন্য উভয় পক্ষই আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোন পক্ষই গল্পটি লেখা পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। আমার প্রশ্নটি এখানেই পশুহাটটি আজও কেন পারমিশন হয়নি? এক পক্ষকে তো পারমিশন দিতেই পারতেন। প্রশাসন কাউকেই পারমিশন দিবেন না এটা কেমন কথা। অপরাধ বা ভূলই যে কারণেই হোক না কেন আলাউদ্দিন নগর ট্রাজেডিটি সৃষ্টি করেছে পুলিশ এবং সিভিল প্রশাসন। পশুহাট সংলগ্ন কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের উপর দাঁড়িয়ে এ্যাডিশনাল এসপি জয় চেয়ারম্যান’কে ডেকে এনে যখন কথা বলেন, তখন কার নির্দেশে পুলিশের ঐ গ্রুপটি আলাউদ্দিন নগর রেলগেটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের পেটালেন। পুলিশে একজন উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতেই পুলিশের ঐ গ্রুপটি কার আদেশ পালন করতে গিয়ে ছিল? সেই আদেশ পালন করতে গিয়েই পুলিশ এবং স্থানীয় জনতার একাংশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। জনশ্রুতিতে জানা যায় সেই সংঘর্ষে আহত পুলিশ অফিসার আহত হবার পরও কৌশলে ফায়দা লুটতে চেয়েছেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন যে, আমার বাড়ী গোপাল গঞ্জে তাই তারা আমাকে আঘাত করেছে। আহত পুলিশ অফিসার হয়তো ভূলেই গিয়ে ছিল, গোপাল গঞ্জের মানুষই শুধু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত নয়, এই অঞ্চলের মানুষও আছে। তাই সে গোপাল গঞ্জের নাম দিয়ে ফায়দা লুটতে চেয়ে ছিল। যেমনটি ফায়দা লুটেছে সিভিল প্রশাসন। প্রশাসন চোর’কে বলেছিল চুরি করতে আর বাড়ীওয়ালাকে বলেছিল জেগে থাকতে। আলাউদ্দিন নগর ঐতিহ্যবাহী পশুহাটটি স্থায়ী ও বৈধ ভাবে পুনরায় স্থাপনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন উভয় পক্ষই দিতে প্রস্তুত আছে। তবুও প্রশাসন স্থায়ী ও বৈধ ভাবে এই ঐতিহ্যবাহী পশুহাটটির পারমিশন দিচ্ছেন না, কিন্তু গড়াই রেলওয়ে ব্রীজের পশ্চিম পাশে পশুহাটের পারমিশন দিয়েছেন ঠিকই।

যদিও পারমিশন দেয়া না দেয়াটা প্রশাসনের ব্যাপার। তবুও আমাকে বলতেই হচ্ছে, আইন মানুষের জন্য। সেই মানুষই যখন আইনের চেয়ারে বসে আইনের লোক হয়ে আইনকে অপব্যবহার করে, সেটা দেখে চরম লজ্জাজনক বলে মনে হয়। সাধারণ মানুষ আইন অপব্যবহৃত ঐ লোকদের সম্মুখে কিছু বলতে সাহস না পেলেও পিছনে কিন্তু তাদের ঠিকই ধিক্কার জানায়।

 

এমরান হোসেন আরিফ

নন্দলালপুর ডিজিটাল সেন্টার

কুমারখালী, কুষ্টিয়া।


Share with :

Facebook Twitter